বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৩

নস্টালজিক মন

নস্টালজিক মন

আমি তারে ত জানি না
আমি হৃদয় মানি না
তবু সে হৃদয় মাঝে আছে
সে যে আসবে নাকো কাছে

সে চঞ্চল এক রমণী
হবে গো কার ভরণী
সে যে রইবে কোথায় চেয়ে
নিজের নয়ন জলে নেয়ে

আমি পথ হারায়ে নি যে
আমি হাত বাড়িয়েছি যে
আমি হার মানিনি যে
কেবল পড়ে গেছি ফাঁদে

এ ফাঁদ যায় না কভু দেখা
এ যে মন আড়ালে ঢাকা
আমি হারিয়ে গেছি হোথা
মন আড়ালে যেথা

আমি কভু তারে দেখিনি
আমি কভু তারে জানিনি
সে যে আমায় তবু জ্বালায়
কত কথায় মোরে কাঁদায়

মন যে বলে চিনি
তবু সত্যি করে জানি
আমি হৃদয় হারায়নি
আমি হৃদয় নিইনি

তবু মন যে বড় একা
খোঁজে মোর প্রানের মিতা
আমি হারিয়ে যেতে চাই
তার মনের গভীরতায়

তার স্বপ্ন দেখা আঁখি
সহজে দেয় না কোনও ফাঁকি
সে যে গভীর নীল চোখ
দিয়েছে গভীর চোট

আমায় নিয়ে খেলা
সে যে করে সারাবেলা
সে তো আর কোথাও নয়
সে যে মনের মাঝে রয়

এ তো মিছে স্বপন দেখা
তবু যায় না দূরে রাখা
সে যে আপন হতে চায়
আমার মনের গভীরতায়

মনের কত কথা
কেবল মিছেয় তো নয় সদা
কত আপন করে নিয়ে
জাল বুনেছে সে

হঠাৎ কি যে হয়ে গেল
কিছু ভুল কি মোর হোল
সে স্বপন আজ কোথা
হৃদয় কি তবে করলো বোকা

বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৩

গঙ্গা

গঙ্গা

ঝর ঝর ঝরে চলে নির্ভয়ে
কলকল্লোলিনী চলে বয়ে
হেথা হোথা ঘূর্ণির আবর্তে
নেমে এসেছে কত যুগ আগে মর্তে

উৎস খোঁজে যারা, বোঝা হায় তুমি মাতা
ভাসিয়ে নগর দেশ প্রান্তর যথা
তোমায় বাঁধবে কে, তুমি তো মহাধারা
সে ধারার সিঞ্চনে ভাঙ্গে কত শোকের কারা

তব প্রয়োজন ছিল মাগো হেথায় আসার
নেই কোনও অভিযোগ, আছে বোঝার
তোমার শীতল পরশে, সকলি যে প্রাণ পায়
যে শীতলতার নেই কোনও মাপকাঠি তাই

তব পরশে ঘোঁচে কত শোকের স্তব
তুমি মাতা বুঝেছ যে সব
তব গাথা যুগে যুগে বয়ে চলে তব সাথে
তোমার কি শেষ আছে এই সৃষ্টির হাতে

সৃষ্টির বিধাতা দিয়েছিল তোমারে বিধান
যার পরে নুয়ে মাথা করেছ প্রস্থান
ছাড়ি অমরলোক বিষ্ণু পদপ্রান্ত
নেমেছ ভূতলে হয়ে জটাই ক্ষান্ত

না তুমি চাহনি জননী ভাসাতে প্রান্তর
চেয়েছিলে পেতে স্থান ঐ জটার অন্তর
সেই স্থান তুমি ধন্য বরে পেয়েছিলে
তব চেয়ে মাগো আর কে বা ছিল

মহিমা তোমার অপার মাগো
যাহা পেয়েছি আর কিইবা চাবো
শস্য শ্যামল উর্বর প্রান্তর
তব আশিশে ফলে সোনা বিস্তর

সৃষ্টির মঙ্গল দায়িনী হে মাতা তুমি মহান
আপন পবিত্রতা করেছ সবারে দান
মোদের মাঝারে নিয়ে পাপ
দিয়েছ সুযোগ করিতে স্খালন যত শাপ

যুগ থেকে যুগে এই ধর্ম পালনে
করনি কুণ্ঠা, তুমি যোগ্য লালনে
সৃষ্টি আজিকে তাই বন্দিছে তব গাথা
বোঝালে সকলি দিয়ে তুমিই অনন্যা গঙ্গা মাতা

শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৩

তোমাকে হারিয়ে

তোমাকে হারিয়ে

কিছু ছিল করার, তোমাকে নিয়ে আমার
বেঁধে ছিলাম মনে কিছু স্বপ্নের জাল
এগিয়েছিলাম পথে দুহাত বাড়িয়ে
পারিনি চলতে তোমার দুহাতে হাত রেখে

যা কিছু আমার পাওয়া, তোমায় হারিয়ে নেওয়া
যা কিছুই হই তোমাই পাব কই
তুমিতো আমার রক্তে মিশে গেছ পদ্য হয়ে
যন্ত্রণা তোমার যে আছে, ফুটে ওঠে আমার দেহে

হয়ত আমি বন্য, কিছুটা আদিম,
ওগো তুমি অনন্যা করেছ মোরে স্বাধীন
কোথাই পাব তোমায় ভাঙ্গা এ মন হৃদয়
কেবলই তুমি আমার বাঁধিয়া চিরদিন

চলতে চলতে বছর কয়েক আগে
ফেলে আসা কোনও এক পথের বাঁকে
তোমারই অগোছালো কবরী মূলে
কত স্বপ্ন ছিল যা আমাদের বাঁধে

জীবন যাতনা মোর
সৃষ্টির উদাসীনতাই বিভোর
কাটেনা সময় আমার
যন্ত্রণার বাহিরে বারবার

তব আঁখির পরে চেয়ে চেয়ে
দিন যেত কেটে, চোখের আড়ালে
এখন শুধুই শ্রাবণ, দৃষ্টি গেছে হারিয়ে
তোমাকে খুঁজব কোথাই, দৃষ্টি ক্ষীণতাই ভোগে

হারিয়ে গেছ তুমি
কোন সে মায়ালোকে
খুজিনা তোমাই আর
তবু মন যে আপন ভাবে

ভাবের খেলাই, পথের বাঁকে
দৃষ্টি তবু তোমার আসার পথে
জানে মন তুমি আসিবে না আর
বড়ই আভিমানী মন যে তোমার

ভুলে গেছ তুমি তোমারই সাক্ষাৎ তরে
কেটেছে কতনা মোর দাঁড়িয়ে রাস্তার ধারে
তপ্ত দুপুর জ্বলেছে এ মন বারবার
এসেছ তুমি বৃষ্টি হয়ে হৃদয়ে আমার

কেটেছে সময় জীবন, হাঁটছি তপ্ত বালুর পথে
রোজনামচা বদলে গেছে যখন হারায় তোমাকে
ভাষা মোর হারায়ে গেছে, শুকায়ে গিয়াছে আশ
জানিনা কোন কিসের দোষে, এই যে সর্বনাশ।

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৩

আগমনী

আগমনী

আপন নিয়মে চলছে চলি নেইকো বাঁধা ধরা
সৃষ্টির নিয়ম প্রকৃতির রকম সবই অবাক করা

নয়ন সমুখে ঘটে চলে যায় কতনা ভাবের খেলা
তোমার আমার মেলে না সময় পথ চেয়ে সেই বেলা

বরিষণ শেষে কবে কেটে গেছে কালর সেই হ্রেষা
এসেছে পরশ শান্ত হিমেল বাতাসে ধরেছে নেশা

মৃদুমন্দ হয়ে ছন্দ বহিছে যে হেথা হোথা
কাননে কাননে জাগিছে যে ধ্বনি, নেই যে কোনো ব্যাথা

নতুন প্রভাতে হয়ে প্রভাতী ঐ দিনমণি ওঠে
পূব গগনের জলধি যে আজ সেই রঙ মাখে ঠোঁটে

অবাক নয়নে প্রকৃতি আজিকে দেখে ধরণীর পড়ে
কত মুক্তার মালা যেন আজ তৃণের মুকুট গড়ে

রাতের স্নেহ সঞ্চিত হয়ে ঝড়ে পড়ে টুপটাপ
শিউলি শিথিল করবীর মূলে জানায় আশীর্বাদ

শিউলি সুপ্ত এখনও ঘুমন্ত, কোল সে মাটির পড়ে
ঝড়ে পড়েছে জানাতে অর্ঘ্য আগমনীর তরে

কাশফুল গুলি দুলিছে হেথায়, পাগল তাদের মন
তারাই জানে এসময় মাঝে তাদেরই সর্বক্ষণ

নেইকো ভাবনা শান্ত লালসা প্রকৃতি খেয়াল মাঝে
সময় ফুরালে ফুরাবে সকলি, কাজ যে অনেক আছে

আমলকী বনে জেগেছে সাড়া বেড়ে চলে তার স্পন্দন
কত সজনেরে হবে হারাতে এই যে বিধাতার নিয়ম

ঝড়ে ঝড়ে যাবে তার সমুখে কতনা সবুজ প্রাণ
এবুঝে তার থামে না বেদনা, বয়ে চলে অশ্রু গান

ঊদাত্ত কণ্ঠে প্রকৃতি চাহিছে মাতৃ আরাধনা
তাই কি বুঝি আকাশ গাঙ্গে পানসির আনাগোনা

তর্পণ দিয়ে শুরু হয়েছিল যে বন্দনার গান
দিন চারেকে শেষ হয়ে যাবে তার শত আয়োজন

তবুও ফুটিবে শিউলি করবী, লুটিবে মাটির পড়ে
হয়ে লুটিত মূর্ছিত প্রাণ মাতৃ আরাধনার তরে

তব মূর্ছনা বলিতে চাহে যে, জননী রেখো মোদের মান
দিয়ো কথা মাগো, এসো ঠিক যেন আবার পরের সন

মাগো তব বছর ফিরে চারিটি দিনের তরে
আগমন হেথা শুধু প্রকৃতি নই, সৃষ্টি সুন্দর করে

অবুঝ কাঙাল মন গুলি হেথা ফিরে ফিরে পায় দ্যুতি
ফোটে যে হাসি, মাতে যে খেলাই ম্লান মুখে আসে জ্যোতি

পথ পরে ফুটিছে কতনা ফুলের সারি
দিতে চাহে সব তোমারি তরে শীষ রেখে নুয়ে পড়ি

আপন খেলার পথ পরে যবে ফেরে সে আপন মনে
পল্লিবালা বাঁধে কবরী, পথ চেয়ে গৃহকোণে

সাজায়ে নিজেরে সন্ধ্যা প্রদীপে ম্লান আলোয় দেখি
যাবে সে দূরের কোনও এক গাঁয়ে দেখিতে সন্ধ্যারতি

আপন মনের মাধুরি মিশায়ে রাখাল বালক আজ
বুঝেছে সে, নিয়েছে জেনে নেই তার কোনও কাজ

অলস বাতাসে ধুপ চন্দনের সুবাস যে যাই বহে
সেই সুবাসে বাঁশরীর সুর, শরতকে বাঁধে মোহে

দূর নীলিমায় গিয়েছে দেখা এক টুকরো আলো
শ্বেত চন্দনে মাখি সে আলোয় কেটেছে নিকষ কালো

ক্ষীণ ভেসে আসে ছন্দের লয় মাতৃ আরাধনা
যুগে যুগে ধরিয়া বাঁধিয়া শরত করেছে বন্দনা।

রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৩

একটি নদী

একটি নদী


আমার তো বেশ মনে পড়ে
আজও আমি যাইনি ভুলে
নাম না জানা নদী ওরে
বয়ে যেতো দূকুল ছুঁয়ে।

দিবস রাতি তাড়িই পাড়ে
কত লোকে বসত যে গড়ে
নদীর বালি চড়া রোদে
ডাক দিত যে ব্যাকুল করে।

তারি টানে ছুটে যেতাম
ঘাটের পড়ে দিয়ে দিতাম
ছোট্ট একটি ডুব
তখন চারিদিক নিশ্চুপ।

তখন নদীর জলে ভিড়টি করে
শালিক কিছু চানটি সারে
খোলামনে সাঁতরে নিতে
নৌকা কিছু পাড়ি দিত।

মনে আমার হত তখন
আমি মাঝি হব কখন
ইচ্ছামতো হারিয়ে যাব
মনের মতো গানটি গাব।

সূর্য্যি যবে অস্তমিত
নৌকা দূরে হারিয়ে যেত
ভাটিয়ালি গানের যে রেশ
সন্ধ্যে বেলাই শোনাত বেশ।

দূর গগনের তারার দল
দিয়েছে দেখা গান শোনার ছল
ভোরটি হলে মিলিয়ে যেত
ঘরে ফেরার সময় হত।

গানের খেয়া ঘাটে ফিরে
মাঝিরা সব বসে ঘিরে
জমিয়ে দিত কথা দিয়ে
সুখ দুঃখের পসরা নিয়ে।

কথা শেষ হবার আগে
পূব গগনে আগুন লাগে
একে একে সময় করে
ঘাটটিকে যে ফেলল ঘিরে।

নানান আওয়াজ নানান কাজে
নদীর জলে মল যে বাজে
বেলা শেষের সময় এলে
ঘাটটি তখন ফাঁকা হলে।

নৌকাগুলো চলে গেছে
মন যে আমার পিছে পিছে
হারিয়ে যেতাম মাঝ নদীতে
দূরগগনে গানের স্রোতে।

নদীটির আজ শীর্ণ কায়া
হাতছানি দেয় বিষাদ ছায়া
হারিয়ে গেছে ভাটিয়ালি গান
ঘাটের পাড়ে কত কলতান।

বন্দী হয়ে লোহার খাঁচাই
নদী যে তার স্রোতটি হারায়
বুজে গেছে তার যে ধারা
বুকে তার হঠাৎ খরা।

নদী চলে বিষাদ ভারে
অতীত স্মৃতির পটটি ধরে
বিষাদ বুকে জল যে আসে
তখন বানে দুকূল ভাসে।